Wednesday, June 01, 2022

নিষ্পাপ-সঙ্গ

 একটা সময় ছিলো যখন নিষ্পাপ-সঙ্গ অর্থাৎ 'বাচ্চা-কাচ্চা' একরকম 'অপছন্দ' করতাম। কারণটা যথার্থ যুক্তিসঙ্গত ছিল(তখনকার হিসেবে) অর্থাৎ একনাগাড়ে কিছুক্ষণ পরপর কেঁউমেঁউটেঁউটেঁউ সহ্য করার মতো সহনশীলতা ছিল না। আর এগুলো ছিল নিখাদ 'কেঁউমেঁউটেঁউটেঁউ' ই। এর থেকে বেশি কিছু না। 

এখন হয়তো 'বয়স বেড়েছে'। মাঝেমধ্যে এক-আধটু উপভোগ করার চেষ্টা করি নিষ্পাপ-সঙ্গগুলো। শুধু উপভোগ না, কতকিছু আবিষ্কার করে ফেলি নিষ্পাপ-সঙ্গগুলোর আশ-পাশে থেকে থেকে। বরঞ্চ মনে হয় সঙ্গ হিসেবে অন্য অনেক কিছুর থেকে, অন্য অনেক সম্পর্ক থেকে, এই নিষ্পাপ-সঙ্গগুলো ভালো। যদি ভার হিসেবে না দেখে, 'জ্বালাতন' না ভেবে, একটু অন্যরকমভাবে দেখা সম্ভব হয়...একটু অন্যরকমভাবে চিন্তা করা সম্ভব হয়, তাদের এক একটা আচরণ, ভঙ্গি হয়তো এক একটা শিক্ষার ভান্ডার হয়ে দেখা দিবে।

যাক, বাচ্চাদের সবচেয়ে সুন্দর দুটো বিষয় হচ্ছে_আমার অনুভূতিতে_ভিজুয়ালাইজ করতে পারা এবং মনে রাখতে পারা। খাবার পর আহমাদকে হাত ধোয়াতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম - বলো তো, খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ না বললে কী হয়?
ভেবেছিলাম (যদিও ভাবা উচিত ছিল না) ভুলে গিয়েছে, কয়েক মাস আগে এগুলো মাথায় ঢুকানোর চেষ্টা করতাম, এখন নিশ্চয়ই মনে নেই...কিন্তু, চটজলদি উত্তর - শয়তান খেয়ে ফেলে! 
আমি অবাক, কিছুটা! তারপর ছোট ছোট নিষ্পাপ প্রশ্ন - 
-  আমি না খেলে কি শয়তান খাবে না?
-  না খাবে না, বিসমিল্লাহ বলে না খেলে তখন খেয়ে ফেলবে।
- বিসমিল্লাহ বলে খেলে কি শয়তান কানবে? [অর্থাৎ ভিজুয়ালাইজিং শুরু]
- হ্যাঁ, সবসময় বিসমিল্লাহ বলে খেতে থাকলে শয়তান কানবে। বলবে, আহমাদ খালি বিসমিল্লাহ বলে খায়, আমাকে খেতে দেয় না।

ঘুমাতে পাঠালাম। বললাম - যাও। বিসমিল্লাহ বলে ঘুমাবা। জোরে জোরে বলবা। তাহলে শয়তান তোমার সাথে ঘুমাতে পারবে না। 
অতএব জোরে জোরে 'আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া'। এবং রিপোর্ট - জোরে জোরে বিসমিল্লাহ বলছি।
- না হবে না, ঘুমানোর জন্য শুয়ে তারপর পড়তে হবে। (ঘুমানোর জন্য কিঞ্চিত বাইল) 

দুধ খেয়ে শুতে গেলো। জোরে জোরে দুয়া পড়বার আওয়াজ আবারও ভেসে এল কানে। 

ঘটালে এমন ঘটনা ঘটে। আমরা ঘটাই না বেখেয়ালিপনায়। বাচ্চারা নিষ্পাপ থাকে বলেই কী না, সত্যটা বললে ওরা দ্রুত ধরে নেয়। নেয় না কি? 
কিছুটা আক্ষেপ মিশ্রিত ভাবনা এসে ভিড় করে - কোন বড় মানুষকে বললে তো এই সত্যটা এতো সহজে গ্রহণ করতে পারতো না! নিজেই তো পারি না, যেকোন নতুন সত্যের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে, দ্রুত গ্রহণ করে নিতে! 

এর পিছনে একটা বড় কারণ আমার মনে হয় - ভিজুয়ালাইজ করতে না পারা। আমাদের দৃশ্যমান পৃথিবীর বাইরে যে আরেকটা পৃথিবী আছে, তা অনুভব করতে না পারা। 

যতো বড় হতে থাকে, মানুষ তত বেশি সম্ভবত ভিজুয়ালাইজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে অর্থাৎ তাকে যা বলা হয় তা সে মনের চোখে দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যত নিষ্পাপ থাকে, যত ছোট থাকে, দুনিয়াকে যতটা কম চেনে, ততোটা বেশি হয়তো সে ভিজুয়ালাইজ করার ক্ষমতা রাখে। 

হয়তোবা, মনের চোখে দেখতে পারার ক্ষমতা কতটুকু এটা হিসেব করে নিজেকে বিচার করা সম্ভব যে, নিজেকে দুনিয়াতে দুনিয়ার বাহ্যিক রূপে কতটা হারিয়ে ফেলেছি। আর এই নিষ্পাপ-সঙ্গগুলো দিয়ে হয়তো কিছুটা হলেও নিজের আসলটাকে অনুভব করা, খুঁজে পাওয়া সম্ভব! 

Thursday, September 30, 2021

নিখাদ বিয়েচিন্তা - ১

 মাঝে মাঝে কিছু বিয়ের সংবাদ আসে কানে; কোনটা কমবয়সীর, কোনটা ছাত্রের, কোনটা কম মোহরানার, কোনটা চিরচারিত বিয়েগুলোর মতোই সাধারণ মাপের একটা বিয়ে। অনেক সময় চিরচারিত নির্লিপ্ততাই কাজ করে। আবার কখনো অবাধ্য কিশোরীদের মত প্রশ্ন ধেয়ে আসে মনে - আমারটা হলো না কেন?

প্রশ্নটা অবশ্য নিজের কাছেই ব্যাকডেটেড লাগে। তারপরও কিছু কিছু উত্তর বের করি, নিজেকে স্বান্তনা দেওয়া কি? স্বান্তনা হলে হতেও পারে, কিন্তু আসল কথা হলো সবকিছুর পিছনেই একটা কারণ থাকে, কারণটা বের করলে সাথে সাথে অনেককিছু আপনাআপনি বের হয়ে আসে। সবই দরকার। 

উত্তর লিখতে গেলে অবশ্য মনে হয়, অনেকেই তো কত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলেছে; আমি আবার নতুন করে উত্তর লিখে কী হবে? বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ, বিয়াইত্তা-আবিয়াইত্তারা জটিল-সরলসোজা কতরকম অ্যানালাইসিস করে ফেলেছে, আমি আবার নতুন করে কি লিখবো? আসলে যদিও এই উত্থানটা আমার চাওয়ার পরই হয়েছে, সে হিসেবে অনেককিছুই আমিঘেঁষা করেই লেখা হয়েছ; তারপরও সবার জন্য সবটা হয়তো খাটে না। আর, একদিকে উত্থান তো হয়েছে; আরেকদিকে বড় একটা অংশই ব্যাকডেটেড রয়ে গেছে, অর্থাৎ - ২৪-২৫ বছর হবে, সক্ষমতা অর্জন নয়তো 'বড় হওয়া' হবে, তারপর বড়দের কাজ বিয়ে করার চিন্তা করা যাবে। তারপরও রেখে-ঢেকে চিন্তা করতে হবে, কারণ এটা বড়দের বিষয়। আর এটা কোন ছেলেখেলা না, অনেক দায়িত্বপূর্ণ কঠিইইইইন একটা বিষয়; কাজেই অভিজ্ঞদের উপর সব চিন্তার দায়িত্ব ন্যস্ত করা উচিত। 

অবশ্য, তুমি রোমান্টিক নাটক-সিনেমা দেখতে পারো, মাঝে সাঝে গান-টান শুনেও নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারো। আমরা দেখেও না দেখার ভান করবো, বা হালকা-পাতলা ধমক দিবো যেটা তোমার গায়ে অতটা লাগবে না। অথবা, এসব তো আসলে খারাপই না, এগুলো তো এ বয়সে করতেই পারো। হ্যাঁ, তোমার বয়ফ্রেন্ড থাকতে পারে, ক্রাশ খাবার গল্পতেও মেতে ওঠতে পারো; যদি আমাদের আড়ালে থাকো।  তবে  মাঝে-সাঝে যদি কোন রিলেশনের খবর বের হয়ে যায়, অনেক চিন্তা করবো টেনশন করবো; কারণ তোমার তো সময় এখন পড়াশোনার, এসবের নয়...এমন চিন্তা করার মত বাবা-মায়ের আপাতত এখনও কম নয়।

গত চার বছর ধরেই মাঝে মাঝে কথাগুলো ঘুরেছে মনে, তবে সেগুলোকে আর শব্দরূপে বাইরে বের করে আনিনি। তার একটা বড় কারণ ছিল - কতটা সঠিক-বেঠিক চিন্তা করছি, তা তো আমি বুঝতে পারছি না। না বুঝে এমন কিছু প্রকাশ করতে চাই না, যা মানুষের জন্য সত্যিই ক্ষতিকর। এবং আমার পাশে আমাকে বোঝাবার মত, আলোচনা করার মত একটা মানুষও ছিল না। 

তারপরও এখন (ডিজিটাল) কলম ধরার অর্থ - এক দুটো চিন্তার ফোঁটা যদি কোন অন্তরে ঢালতে পারি। হয়তো আমি পুরোপুরি সঠিক চিন্তা করতে সক্ষম নই, কিন্তু কিছু চিন্তা তো করেছি! আর কোন চিন্তা মূল্যহীন? হয়তো তা আমার মত কিছু (প্রাক্তন)কিশোরীর কাজে আসবে, হয়তো কিছু বাবা-মার চিন্তায় হালকা হলেও ঢেউয়ের ছাপ পড়বে। আমার জন্য তাও তো একেবারে মূল্যহীন নয়, ইনশাআল্লাহ। 

দ্বিতীয়ত, বিয়ের পর আরো ম্যাচিউরড হয়েই হয়তো কথাগুলো লিখতে পারতাম। কিন্তু তাতে খুব সম্ভবত আসল সমস্যাগুলো নিয়ে আসলরূপে লিখতে পারবো না; যে সমস্যাগুলোকে বিয়ের জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে পেয়েছিলাম। তাতে লেখার ফায়দাও বেশি একটা পাবো না। 

যদি মারা যাই, একটু স্বান্তনা নিয়ে মরতে পারবো - আল্লাহ চিন্তারূপে যে নেয়ামত দিয়েছিলেন, সেটাকে একেবারে ধুলোয় মিশিয়ে দেইনি অবহেলায়; কাগজের বুকেও কিছু আমানত রেখেছি। ইনশাআল্লাহ।

চিন্তাগুলো যে একেবারে চিন্তাহীনভাবে লিখে ফেলবো, এমনও নয় ইনশাআল্লাহ। চেষ্টা করব, যথাসম্ভব সিকিউরড করে লেখারা। আল্লাহ তাওফীক দেনেওয়ালা, আর আল্লাহই কবুল করনেওয়ালা। 

Thursday, May 20, 2021

তার ছোট পৃথিবী পাক না খুঁজে আকাশের বিশালতা!

একজন আমাকে কথাপ্রসঙ্গে এরকম কিছু বলেছিলেন  যে, তিনি তাঁর মেয়েকে ইংরেজি খুব ভালোভাবে শিখাতে চান, যেন সে পিছিয়ে না পড়ে। যদি প্রতিবেশী মেয়ে এসে খুব দক্ষভাবে ইংরেজি বলে, অর্থাৎ কথ্য ভাষায় 'ফটরফটর' করে ইংরেজি বলে তাহলে যেন তাঁর মেয়েও দক্ষভাবে জবাব দিতে পারে; যেন সে ইংরেজি না পারার কারণে হীনমন্যতা বোধ না করে, অথবা যেন তাকে ফটাফট ইংরেজি বলে ছোট করা না হয়। 

তাঁর কথা থেকে যা বুঝেছিলাম, মোটামুটি এই। আমার বোঝার কিছু ভুল থাকতে পারে; তবে বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের দেশে বর্তমানে প্রচুর এবং প্রচুর পরিমাণেই এমন বাবা-মা থাকেন, যারা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে এমন স্বপ্ন দেখেন এবং সন্তান তাতে দশ-পনেরো বছরেই মাস্টার্স করেছে বলে গর্ববোধ করেন। এমনকি সম্ভবত এমনও থাকবেন, যারা তাঁদের সন্তান বাং/\লা পারে না বলে গর্ববোধ করেন।

তবে দুঃখের ব্যাপার হলো, অনেক দ্বীন সম্পর্কে বুঝদার মানুষও এ ধরনের চিন্তা সযত্নে লালন করেন।

সেদিন বলতে চেয়েছিলাম, তবে বলতে পারিনি; তবে মাঝে মাঝেই কথাটা মনে হয়। একটা প্রশ্নও মনে জাগে - কেন, এ ই__ং/\রে।জি এর দক্ষতা কেন একটি শিশুসন্তানের গর্বের বিষয় হবে? এটা কীভাবে আমাদের সন্তানদের গর্বের অথবা আভিজাত্যের মাপকাঠি হবে এ ভাষা?  কী কারণে তার চিন্তাকে বিস্তৃত করে দেবো না, কেন তাকে চিন্তার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত রাখবো না? 

আপনার শিশু, তার মনন যখন আপনার হাতে গড়ে উঠছে, তাকে আপনি যা বলবেন যা বোঝাবেন তাই বিশ্বাস করবে। যথেষ্ট বড় হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হতো যে, তিন গোয়েন্দা বলতে কোন টিম নেই। আপনার শিশুকে যখন ভূতের গল্প শোনান, সে তাই বিশ্বাস করবে। যদি শোনান সত্য গল্প, সে তাই বিশ্বাস করবে। কেন আপনি তার মনের সতেজ মাটিতে আকাশের বিস্তৃতি গেঁথে দেবেন না? 

'ইং--{/রেজি পারা' শিশুকে যদি আপনার শিশু জিজ্ঞাসা করে - তুমি কি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লহ' মানে কি জানো? আমি কিন্তু জানি। সম্ভবত  ঐ শিশু 'জাস্ট ইগনোর' করবে, অথবা 'না' উত্তরের বেশি আগ্রহ দেখানোর প্রয়োজন বোধ করবে না।
আপনার শিশুও কনফিডেন্ট হোক! সে যদি আপনার শিশুর সাথে অন্য ভা-ষা-য় কথা বলে - আপনার শিশু বি/\রক্ত হয়ে বলুক, 'তুমি কি বাংলা পারো না?' 

অন্য একটি ভাষাকে ভালো করে জানার জন্য মাতৃভাষাকে আজনবী বানিয়ে তাকে ঐ ভাষার ক-থ্য রূপে অভ্যস্ত করতে হবে, এটা কেমন সঠিক? কেউ যখন সৌদি,জাপান,চীন,মালয়েশিয়া যায়; সে ছোট থেকে এসব ভাষায় অভ্যস্ত ছিল না বলে কি তার উন্নতি থেমে যায়, সে কি পিএচডিতে ফেইল করে, সে কি ফিরে আসে?
ঐ সম্পর্ক আমাদের শুধুমাত্র 'প্রয়োজন'। আর কিছু নয়, কিছুতেই নয়। 

আপনার সন্তান তার প্রতিবেশি বন্ধুর হাত ধরে বিস্তৃত আকাশের নিচে নিয়ে যাক, তাকে সবুজ ভূমিতে নিয়ে যাক; তাকে জিজ্ঞাসা করুক - ঐ আকাশ কে বানিয়েছে তুমি জানো? এই যে তোমাকে কে বানিয়েছে জানো? 
তার বন্ধু যেমন জবাবই দিক, আপনার শিশু স্বপ্নীল চোখে বলুক - আমাদের বানিয়েছেন আল্লাহ! তুমি কি চেনো তাকে? জানো, আল্লাহ আমাদের কাছে চিঠি লিখেছেন, অনেক গল্প বলেছেন; আমি ঐ চিঠি পড়তে পারি, তুমি পারো না?
আপনার শিশুর চোখ থেকে ঝরে পড়ুক বিস্ময়। 

হ্যাঁ, আপনি আপনার শিশুর বুকে আরবীভাষার ভালোবাসা গেঁথে দিন। আপনার শিশু ডি --জ\নিল্যান্ড চেনার আগে জান্নাত চিনুক। মিথ্যার সাথে পরিচয় করার আগে তার নিষ্পাপ হৃদয়ে সত্যকে এঁকে দিন। তাঁর মননে গেঁথে দিন যে, একদিন ঐ সুবিশাল আকাশ থেকে কিছু ফেরেশতা আসবে পাখির মতো, এসে তাকে নিয়ে যাবে তার স্বপ্নের জান্নাতে। সে জান্নাতের ভাষা পারে বলে আপনার শিশু গর্ব করুক। বিজাতীয় ভাষা শিখবার আগে সে নিজের ভাষা, পিতৃভাষা শিখুক। 

Sunday, March 07, 2021

ছোট্ট একটি স্বপ্ন দেখি...

 একটি প্রশান্ত বিকেল। ছোট একটি ব্যালকনির একপাশে ছোট্ট সাজানো একটি বাগান। একপাশে একটি ছোট টেবিল। একটি চায়ের মগ। কিছু বই। হয়তো - একটি খোলা ল্যাপটপ। আর...স্বপ্নিল চোখে চায়ের মগে একটি প্রশান্ত চুমুক। একটা মুহুর্ত...

মানুষ কি এর থেকে বেশি স্বপ্ন দেখে? আমার কেন যেন মনে হয় মানুষের স্বপ্ন খুব বেশি আকাশচুম্বী নয়। আকাশচুম্বী দালান...আচ্ছা থাক, দশ-বারো তলা দালান, গ্যারেজে দুই-তিন ব্র্যান্ডের গাড়ি; এ সবের স্বপ্ন মানুষ হয়তো দেখে; কিন্তু সবই একটি 'প্রশান্ত' চুমুকের মুহুর্তটির জন্য। শুধু প্রশান্তির জন্য...গর্বের প্রশান্তি...মালিকানার প্রশান্তি...

ভাবছি...আলহামদুলিল্লাহ, এতো স্বপ্ন তো দেখা হয়নি; যে কোন কারণেই হোক। কোন স্বপ্নই হয়তো দেখিনি। তবু মানুষের চাওয়ার সাথে আমার পাওয়ার কীভাবে মিল হয়ে গেলো!...আলহামদুলিল্লাহ ফর এভরিথিং...

হতে পারে, সবই বিজ্ঞাপনের ছবির মতো খাপে খাপে মিলেনি; হতে পারে টেবিলটা আরএফএলের নয়, অথবা বাগানের সব গাছেই হয়তো ফুল নেই; অথবা পর্দাঘেরা ব্যালকনি হয়তো শহরের দালানের কঙ্কাল থেকে আমার চোখ হেফাযত করছে; কিন্তু চায়ের মগে 'প্রশান্তি'র চুমুক তো আছে! ঐ নীল আকাশের অসীম বিস্তৃতি তো আছে; স্বপ্নিল চোখে হারিয়ে যেতেও কি বাধা আছে? আলহামদুলিল্লাহ ফর এভিরিথিং...

যে একটা মুহুর্তের স্বপ্ন মানুষ দেখে, যেভাবেই হোক সেই একটা মুহুর্ত যদি পেয়ে যাই; আর কী লাগে?

নাহ, আমি এতোটা অল্পেতুষ্ট নই। শুধু ভাবছি, স্বপ্নকে বাস্তবমন্ডিত করার ক্ষমতা আমার না থাকতে পারে; শুধু এ কারণেই আমি স্বপ্ন না-ও দেখতে পারি; কিন্তু আমার আল্লাহর তো বাধা নেই - সব স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবার!

তবে একটা স্বপ্ন আমি দেখি - হ্যাঁ! সবুজের প্রান্তরে নীল আকাশে হারিয়ে যাবার; ঘুমিয়ে যাবার, যে ঘুম থেকে কোন ব্যস্ততা, কোন সময়ের তাড়া ডেকে তুলবে না...

আমার যোগ্যতা নেই, ক্ষমতা নেই স্বপ্নকে সত্য পাওয়ার...আমার রবের তো আছে!

আরেকটা স্বপ্ন দেখি...চুপিচুপি বলে যাই?

জানো, আমি স্বপ্ন দেখি আমি...চীনের অলিগলিতে, আকাশে-বাতাসে, ঘরে-ঘরে একদিন আজানের ধ্বনি বেজে উঠবে...

আমি জানি, আমার ক্ষমতা নেই; কিন্তু স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা আছে...

আর জানো, আমার আল্লাহর কিন্তু ক্ষমতা আছে...

Tuesday, November 10, 2020

বই কথা বলেঃ কাশগড় - ৩

 ৬.

বয়কট! বয়কট!

আমরা যে আমাদের নবীকে খুউউব ভালোবাসি! তাই সহ্য করতে পারিনি। বয়কট করে দিয়েছি ঐ ফ্রান্সকে, যে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের ভালোবাসার জায়গা, আমাদের নবীকে অপমান করেছে। যতদিন বেঁচে থাকবো, এই কুলাঙ্গার ফ্রান্সের কোনকিছু খাবো না, ব্যবহার করবো না...

সত্যিই! সত্যিই!!

সত্যিই আমাদের ঈমান এতোটাই দৃঢ়?

আমরা কি আমাদের দাবিতে সত্য? সত্যিই সত্য?


ভাই, আমাদের হাবীব বেঁচে থাকলে; কী নিয়ে কাঁদতেন? কী নিয়ে ভাবতেন? তুমি তাঁর চিন্তার জায়গা, তাঁর ভালোবাসার বিষয়, তাঁর ফিকির - কিছুই বুঝলে না, এমনকি বুঝবার চেষ্টাও করলে না; কেমন ভালোবাসা তোমার?

সত্যিই কেমন ভালোবাসলাম তাকে?


তাঁর কল্পিত চিত্রের অপমানে আমরা একতাবদ্ধ হয়ে একটা দেশকে বয়কট করেছি।

যে দেশ তাঁর রবের কালামকে শুধু অপমান নয়, চরম অপমান করেছে, তাঁর সুন্নাহ পালনের জন্য নির্মম থেকে নির্মমতর আচরণ করেছে; যে দেশ তাঁর ভালোবাসার উম্মাতের একটা অংশকে নিঁখুতভাবে নিঃশেষ করে দিচ্ছে; যে দেশ তার অনুসরণকে ব্রেইন ডিফেক্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যে দেশ তার চক্ষুশীতলতার জায়গা নামাযকে নিষিদ্ধ করেছে কেবল তা-ই নয়, চরমভাবে নজরদারি করে লুকিয়ে নামাজ পড়ার স্বাদ থেকেও বঞ্চিত করছে...ভাই, এসব বিবরণ শেষ হবে না...

আমরা পারবো সে দেশকে বয়কট করতে? নাকি 'দুয়া'র অজুহাতে বরাবরের মতো পালিয়ে যাবো?

ফ্রান্সের পণ্যের মতো ঘৃণা করে যদি নিজ ব্যবহার থেকে সব চায়না প্রোডাক্ট বর্জন করতে না পারি; নতুন পণ্য কেনা কি বন্ধ করতে পারবো?

আমরা যদি এক হই, নিশ্চিতভাবে চায়না ধ্বসে পড়বে ইনশাআল্লাহ। পারবো? পারবো?

আমরা আমাদের ঈমানের মজবুতি এখান থেকেই যাচাই করে নিতে পারি। কতটুকু ভালোবাসি আমরা মুহাম্মাদ সা. কে?

আর আজ যদি এড়িয়ে যাই, তার ফলশ্রুতি কতোদিন এড়াতে পারবো? আল্লাহ না করুন, শাস্তি যদি চলে আসে; আমরা তখন আমাদের ভুল স্বীকার করে কী হবে? 

মৃত্যুর আগে শেষ লাথি তো উম্মাহর অনেকেই মারছে। অনেক তো হলো, আর চোখ বন্ধ করে কার উপকার করবো?

আমরা কিচ্ছু করবো না। 

শুধু আমাদের উম্মাহর আগামী প্রজন্মকে একটি সোনালি ভবিষ্যত উপহার দিবো, বোমা-বারুদের ধোঁয়ায় ঢাকা ভবিষ্যত না, মা-বাবা থেকে আলাদা করা ভবিষ্যত না, রক্ত আর রক্তের, দাঙ্গা আর দাঙ্গার ভবিষ্যত না; আমরা উপহার দিবো স্বপ্নের শান্ত ভবিষ্যত, পারবো না?

আমাদের রোহিঙ্গা ভাই-বোনের শুধু নিজের ভূমিটা ফিরিয়ে দেবো, পারবো না? বাড়তি কোন জায়গা দেবো না, কেবল নিজের ভূমি।

আচ্ছা তা-ও অন্যায়? ঠিকআছে, তার ভাই-ভাই হয়ে থাকুক আমাদের সাথে; আমরা শুধু আমাদের আসামের ভাই-বোনদের রক্ত ঝরতে দেবোনা। পারবো না?

আমরা যিনজিয়াং রহস্য উন্মুক্ত করবো, পারবো না?

কোনটাই পছন্দ হচ্ছে না?

আচ্ছা, আমাদের (ভৌগোলিক) দেশে কোন কালো হাতের ছায়া পড়তে দেবো না। এতটুকুও কি পারবো না?

জাগ্রত উম্মাহ! হে উম্মাহ! এতটুকুও পারবো না? এতটুকুও না? 

কেবল মৃত্যুর আগে ঘৃণা নিয়ে শেষ লাথিটুকু? এ-ও জীবন? 

বই কথা বলে: কাশগড় - ২

৪.

মনে হয়, কতো কিছু লিখবো। এতো কথা একসাথে ভিড় করে, কোনটা লিখা যায় বুঝে উঠতে পারিনা। মনে হয় যেন, স্মৃতি একটু ঘোলাটে হয়ে এলে লেখার কিছু ভাষা ফিরে পাওয়া যায়...কিছুতেই এক বসায় শেষ করতে পারছি না...

চিন্তা-চেতনায় যখন কাশগড়, তখনই হঠাৎ ফ্রান্সের এই খুঁচিয়ে দেওয়া। ওদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট, হয়তো ওরা পরীক্ষা করতে চায়- আমরা কতোটা মুসলমান আছি; অথবা জাস্ট খেপিয়ে দিতে চায়, কোন একটা ইস্যু বের করে আবার নতুন কোথাও হামলা করা জায়েয বানানোর জন্য...

দর্শকের মতো দেখে যাচ্ছি...ফ্রান্সের উষ্কানি; আলহামদুলিল্লাহ মনে একটু জোয়ার আসে, আমরা নিশ্চিহ্ন হইনি ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ আমরা আছি, ইনশাআল্লাহ একসাথেই আছি...ভালো লাগে...
ওরা কেন শুধু শুধু খেপাতে চায়? কেন ১৫০০ বছর আগের একজন মানুষকে নিয়ে তাদের এতো 'মাথানষ্ট'? আবার 'শক্ত অবস্থান'? আবার 'পাশে থাকা'? 
আসলে ওরা ভয় পায়...খুব ভয় পায়; আমরা জানিনা, তবে ওরা জানে আমাদের শক্তি কোথায়...এজন্যই ওদের এতো মাথাব্যথা...
কিন্তু...

সব ভালোলাগার মধ্যেও হঠাৎ 'কাশগড়' দপ করে দেখা দিয়ে যায়। হঠাৎ বোবা হয়ে যাই। যা দেখছি, তা কি সত্যি? সত্যিই কি উম্মাহ বেঁচে আছে, জেগে আছে? শুধু আষ্ফালন নয় তো? শুধুমাত্র দুদিন একটু জোর দেখানো না তো? 

এ আন্দোলনকে সপ্রশংসিত উৎসাহ দেখিয়ে তারপর,
প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে - উম্মাহ! আসলেই কি আছো তুমি?
তাহলে বলো - হুযুর সা. যদি বেঁচে থাকতেন, কোন জিনিস নিয়ে বেশি দুঃখিত হতেন? 
আমাদের উম্মাহর পক্ষ থেকে আমাদের জান-প্রাণ দিয়ে হুযুর সা. এর মান-ইজ্জত রক্ষা করা আমাদের ঈমানের দাবী; শুধু দাবী নয়, আরো বেশি কিছু। একে একে প্রাণ দিয়ে দিই, তবু তিনি বেঁচে থাকুন...আমাদের পূর্বপুরুষরা তো এমনই ছিলেন...

কিন্তু বলো দেখি, আমরা যার সম্মানের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত...তাঁর কান্নাজড়িত রাতগুলো দুয়াগুলোর কি আমাদের কাছে কোন মূল্যই নেই?
বলো দেখি, যতদিন বেঁচে ছিলেন - কাদের আদর্শ হবার জন্য তিনি নিজের জীবনকে অতিকষ্টে কাটিয়ে গেছেন? বলো, কাদের জন্য জিহাদ করেছিলেন? কাদের জন্য জীবনের ঝুঁকির সাথে দাওয়াতের কাজ করে গেছেন? তাঁর চিন্তা-ভাবনা জুড়ে কারা ছিলো?
আমরা নই কি? আমাদের ভাই-বোনরা নয় কি? 

আমরা পারবো না, ঠিক পরের মুহুর্ত থেকে তাঁর আদর্শ অনুসরণের দৃঢ় নিয়ত করতে; যার জন্য আমরা প্রাণ দিতে প্রস্তুত হয়েছি?

উম্মাহ! কোথায় ছিলে এতোদিন? তোমার সামনে আমেরিকা একের পর এক তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিলো, যাদের জন্য তোমার নবী নিজের জীবনের সবকিছু উৎসর্গ করেছেন, যাদেরকে ভালোবেসে গেছেন, জন্মের দেড় হাজার বছর আগেই যাদের স্মরণ করেছেন। 
তোমার সামনেই কাশ্মীর জ্বলছে, তোমার সামনেই ভারতে তোমার ভাইদের জায়গা ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে; তোমার সামনেই তোমার রোহিঙ্গা ভাইয়েরা স্বদেশ ছাড়া হলো..কোথায় ছিলে তুমি?
এখন তোমার চোখের পিছনে_তবে সদিচছুকের সচেতন চোখের পেছনে নয়_তোমার উইঘুর ভাইদের স্রেফ নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে..

আফসোস, ট্যাগ মেরে নবীপ্রেম দাবি করা তুমিই তো আবার দাবি করো..
'ওসব প্রোপাগান্ডা!'
'এসব ওদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার!'
'বাংলাদেশে তো হচ্ছে না! আমরা এখনো স্বাধীন(আলহামদুলিল্লাহ)! ওসব নিয়ে আমাদের চিন্তার প্রয়োজন নেই!'

ছি: কীভাবে এতো জঘন্য হলাম!
ভাবছো, তোমাকেই কেবল বকে যাচ্ছি? আসলে তা নয়, বকছি নিজেকেই..আমি তো তোমারই অংশ..

৫.

তিনটি খবর..

- জাতিসংঘে উইঘুরদের পক্ষে গেলো ২৭টি চিঠি। এর মধ্যে মুসলিম দেশ ছিলো...একটিও না!

- জাতিসংঘে উইঘুরদের বিপক্ষে চায়নার পক্ষে গেলো ৩৭টি চিঠি, যার মধ্যে মুসলিম দেশ ছিলো..গুনো, পারবে না?

https://thediplomat.com/2019/07/which-countries-are-for-or-against-chinas-xinjiang-policies/

- ভারতে গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে, জেনোসাইড বিশেষজ্ঞের মতে। এখন আছে ১০টির মধ্যে একদম শেষ ধাপে।
https://www.theweek.in/news/world/2019/12/14/muslims-in-kashmir-assam-1-step-away-from-extermination-genocide-researcher.html


কী মনে হয়? একটুও আঁচ লাগবেনা বাংলাদেশে; যেমন রোহিঙ্গা তাড়ানোর সময়েও লাগেনি, তাই না? বাংলাদেশ তো একদম স্বাধীন, এতো স্বাধীন যে মোদি হুজুর নিজের অধিকারবশেই হুমকি-ধামকি দিতেও খুব ভয় পায়, তাই না?

আরে, চিন্তা করো না ভাই; আমরা উম্মাহবাদী না হলে কী হয়েছে, জাতীয়তাবাদী তো! 
আর ওরা জাতীয়তাবাদী না হলে কি হবে, উম্মাহবিরোধী তো!
একদম চিন্তা করো না; যাও, নিজের কাজে ফিরে যাও।


৬.

আশ্চর্য! কবে আমরা জাতীয়তাবাদের সবক এতো চমৎকারভাবে মুখস্থ করলাম?!
কবে এতো সংকীর্ণ চিন্তাধারার অধিকারী হলাম?

আমাদেরকেই কি অত্যন্ত ভালোবেসে বলা হয়নি-
তোমার একটি দেহ, তোমরা একে অপরের ভাই?

আশ্চর্য! কবে ভুললাম, কেন ভুললাম?
কেন, ওরা তো ভুলেনি!
ওরা আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, ইরাক-সিরিয়ায় কেন বোমা ফেলে? আমরা মুসলিম বলেই তো!
শ্বেতসন্ত্রাসের বলি কারা হচ্ছে? 
কাশ্মীরে কেন রক্তপাত চলছেই? ওরা মুসলিম নয়, এ কারণে?
কেন রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিলো? কেন ভারত রাতারাতি মুসলিমদের ঐতিহাসিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়? কেন অসম্ভব গল্প মুসলিমদের নিয়েই ফাঁদে?
কেন চায়নার মনে হয়, তুর্কিস্তানীদেরকেই 'সুশিক্ষা' দেওয়া দরকার?

কেন ওরা সব ভুলে একে অপরের 'পাশে' থেকে যায়? আর আমরাই কেন নিজেরই পাশ থেকে সরে যাই? হ্যাঁ, আমরা তো এক!
ওরা জাতীয়তাবাদের 'সবক' শিখায়, তারপর নিজেরাই তো ভুলে যায়..
ওরা তো মানচিত্রের আঁকিবুকির পরোয়া করেনা! আমরা কেন ওদের এঁকে দেওয়া আঁকিবুকি থেকে নিজের চিন্তাকেও সাজিয়ে নিই?!

কী আফসোস! আফসোস প্রকাশের আলাদা কোন ভাষাও তো নেই!

আল্লাহ কতো করুণাময়, তাঁর অবাধ্য বান্দাদের প্রতিও কতোটা_ভালোবাসা বলবো না? নাকি কেবল ন্যায়বিচার_দেখিয়ে আমাদের সতর্ক করে বললেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ


মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও (হুজুরাত: ৬)

আর আমরা? 
নিজ সম্প্রদায়ের হালাক হবার, ধ্বংস হয়ে যাবার খবর শুনছি; তবু কেবল পাশ কাটিয়ে চলে যাই, প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিই। সত্য না মিথ্যা যাচাই করবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা পোষণ করিনা।
আমাদের বিচার কেমন হওয়া উচিত?
আল্লাহ ক্ষমা করুন। সংশোধনের তৌফিক দিন। 

Saturday, November 07, 2020

স্বপ্নে সহসা

 ইনশাআল্লাহ,

একদিন সব ব্যথা ঠেলে

পৌঁছে যাব ঐ উদ্যানে।

যেখানে সবুজ প্রান্তরে পরম শান্তি মেশে

নীল আকাশের স্বচ্ছতায়।

ত্যাগও কতোটা আনন্দের হয়, তা

প্রিয়র জন্য কষ্ট টেনে নেওয়া ঐ পাখিরাই জানে ।