Tuesday, November 10, 2020
বই কথা বলে: কাশগড় - ২
Saturday, November 07, 2020
স্বপ্নে সহসা
ইনশাআল্লাহ,
একদিন সব ব্যথা ঠেলে
পৌঁছে যাব ঐ উদ্যানে।
যেখানে সবুজ প্রান্তরে পরম শান্তি মেশে
নীল আকাশের স্বচ্ছতায়।
ত্যাগও কতোটা আনন্দের হয়, তা
প্রিয়র জন্য কষ্ট টেনে নেওয়া ঐ পাখিরাই জানে ।
Monday, November 02, 2020
বই কথা বলে: কাশগড় - ১
আমি লিখতে বসেছি, কারণ আমি জানি আমার লেখা দরকার, কিছু বলা দরকার। হয়তো কী বলতে চাইছি তা প্রকাশ করতে পারবো না, হয়তোবা লেখা পড়ে তুমি সুসাহসী আমার বোকামি দেখে মুচকি মুচকি হাসবে; তবু আমার কিছু বলা দরকার, আমার জন্যই দরকার। তোমার জন্যও..
অচছা, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করি? তুমি কি আযান শুনে কখনো কেঁদেছ? হাসি আসছে? আচছা, একটু হেসে নাও, এখন তো পরিবেশ শান্ত আছে; কিন্তু আমার একটা অনুরোধ রাখবে? একটু পর যে আযান হবে, মন দিয়ে শুনবে, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত; প্রতিটি শব্দ অনুভব করে..পারবে না?
আচছা, তুমি কখনো অনুভব করেছ; একটু পর পর 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি যে তোমার কানে বেজে ওঠে, তা কতটা সৌভাগ্যের, কতোটা আনন্দের?
আচছা, করোনাভাইরাসের অজুহাতে মসজিদগুলো যখন খালি হয়ে ছিল; আযান হতো, কিন্তু তাতে সাড়া দিয়ে কেউ মসজিদে যেতে পারতো না..তখন কি তোমার কান্না আসতো?
তুমি কি সত্যিই অনুভূতিহীন? আচছা, এক মুআজ্জিন যে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে আযান দিচ্ছিলেন, ওটা কি তুমি শুনছিলে? শাইখ আস-সুদাইস যে শূন্য মাসজিদুল হারামে ইমামতি করতে গিয়ে কাঁদছিলেন, ওটাও শোনা হয়নি? সবটাই কি তোমার কাছে অবিবেচকদের হাস্যকর কাণ্ডকারখানা ছিল?
আসলে কি জানো, ওটা বড় একটা সুযোগ ছিল নিজেকে, নিজের স্বরূপটা বুঝে নেবার..
১.
আচছা আমাকে বলবে, ঠিক কোন ভাষায় তোমাকে বোঝাতে পারবো? কোন ভাষায় বললে তুমি আমার কথাগুলো বুঝতে পারবে? আমাকে বলো, আমি ঠিক সে ভাষায় তোমাকে বলব। ঠিক সে ভাষায় বলবার চেষ্টা করবো, বিশ্বাস করো।
আচছা ভাই, তুমি কি সেই, যাকে পুরুষ বলে, যাকে মানুষ উম্মাহর কান্ডারী মনে করে? তোমাকে নিয়ে একটু কল্পনার জগতে ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে চাই। যাবে? শুধু এতটুকু খেয়াল রেখো, তোমার কাছে এখন যা শুধু 'কল্পনা', তা-ই ঠিক তোমার মতো অনেকের কাছে চরম বাস্তবতা। চলো..
আচছা, কেমন লাগবে তোমার? যদি একটা শীতল চোখ তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে তোমাকে খুব সাধারণ একটা প্রস্তাব দেয়, রাজি হও,নয়তো তোমার মাকে নিয়ে যাবো..কোথায়? তোমার জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই, তুমি জানো তারা কোথায় নিয়ে যেতে চায়।
শীতল চোখের আহবান প্রত্যাখ্যান করা তোমার মেরুদণ্ড সহ্য করবে কীভাবে? তুমি রাজি হয়ে গেলে..তারপর, একে একে নিজের বোন, বোনের পরিবার, তার জীবনসঙ্গীর পরিবার, যাকে পারলে..কেউ হয়তো লুকিয়ে ছিলো, তাকে বের করে এনে তুলে দিলে তাদের হাতে, কেউ দেশের বাইরে ছিলো তাকে ডেকে এনে দিলে..শত শত মা, শত শত বোন; নিজ হাতে তাদের ভবিষ্যত্ গড়ে দিলে..
মনে হচছে বেশি বলছি? একটুও না, অনেক অনেক কম বলছি..আমি জানি অনেক কম করে বলছি, তবু বলছি..বলবো বলে, বলতে হবে বলে..
তারপর? যেদিন তোমার মাকে নিয়ে তারা উপস্থিত হতে বলল..সেদিন তোমার মন কী বলছিল? আমি নিশ্চিত, তোমার হৃদয় শূন্য ছিল..আমি বরং আরো যুক্ত করবো- আমাকে বলো, তোমার প্রাপ্য কী ছিল?
ভাই, দুটো অনুরোধ করবো, রাখবে? হয়তো হাসবে এখন, তবু মনে রেখো..
যদি অবস্থা চলে আসে, আল্লাহ না করুন, যদি চলে আসে কখনো আযান বন্ধ হতে দিও না..
একটু চোখ বন্ধ করে ভাবো, একটু নাহয় সময় নাও - সময় নিয়ে বিশ্বাস করে নাও; মুসলিম নামে যত বোন আছে, সবাই তোমার নিজের বোন; যতো মা আছে সবাই তোমার নিজের..
একটা কথা দিতে পারবে? যদি আল্লাহ না করুন, অবস্থা চলে এলে তুমি বেঁচে থাকতে একটা পশুও তোমাকে ডিঙিয়ে তাদের পর্যন্ত পৌঁছতে না পারে..কথা দিয়ে যাও, পারবে না?
https://www.aljazeera.com/features/2019/2/1/exposed-chinas-surveillance-of-muslim-uighurs
......
আচছা আপু, তোমাকে কোথাও ঘুরিয়ে আনবো না। জানো ভাবলে কেমন যেন লাগে, একসময় কিছু 'পুরুষ' ছিলেন; একজন নারীর ক্ষীণ আর্তনাদে তারা, শত শত বরং লাখ লাখ 'তাদের' জীবনবাজি রেখে দাঁড়িয়ে যাবার সাহস ছিল। কিন্তু এখন?
জানো কেমন কষ্ট লাগে, সাহাবীরা যখন হুযুর সা. এর সাথে যুদ্ধে বেরোতেন; রত্নের মতো করেই তারা নারীদের পিছনে সুরক্ষিত রেখে আসতেন। যুদ্ধের কদর্যতা তাদের ছুঁতে পারতো না। এখন যুদ্ধ মানেই...আর ঐ মহাপুরুষদের উত্তরপুরুষরা নিজ হাতে তাদের আত্মসম্মানবোধকে পশুর কাছে বিকিয়ে দিতে খুব বেশি কুন্ঠিত হয় না...
এখন তারা সামান্য দেশীয় হায়েনা থেকেই বাঁচাতে পারে না, আর কি বলার আছে? আর কি ব্যাখ্যা করার আছে?
ওরা হায়েনা নয়, অন্য কোন পশুও নয়; ওরা এমন, যার উপর যেকোন পশু মলত্যাগ করতেও ঘৃণা করবে...জানো, ওরা...
https://www.businessinsider.com/china-uighur-monitor-home-shared-bed-report-2019-11
থাক আর কিছু বলতে রুচিতে কুলাচ্ছে না। আমার সাথে একটা প্রতিজ্ঞা করবে? আল্লাহ না করুন, যদি অবস্থা চলে আসে, আমরা হাতে হাত ধরে শেকল তৈরি করবো। একজনকেও একলা নিতে দেব না; আমরা আলাদা করে কেউ হবো না, সবাই এক অস্তিত্ব হবো। পারবো না?
পারতে হবে না? আপু শোন, তুমি এখন নারী আন্দোলনের অগ্রদূত হতে পারো। কিন্তু জানো, ওরা কিন্তু বিচার করে না কে কতটা নারীবাদী হতে পারলো, কে পোশাকে কতটা উগ্র হতে পারলো, কে ওদের সভ্যতা কতোটা গ্রহণ করতে পারলো। ওরা কী দেখে জানো? ওরা সিসিটিভির ক্যামেরা জুম করে দেখে...তারপর নিয়ে যায়; যাদের নিয়ে যায়, তাদের কেউ ফিরে আসে, কেউ আসে না...
আপু তুমি যদি তাদের একজন হও, যারা এখন 'পশ্চাৎপদ' হতে চায় না বলে বরং আরো কিছু পশু তৈয়ার করছে, নিজ হাতে গড়ছে (ব্যাখ্যা করতে হবে কি?); হয়তো যেদিন প্রয়োজন হবে, তোমার হাত অতটা শক্ত করে ধরতে পারবো না...
২.
বইয়ের পিছনে লেখা 'দূর্বলচিত্তের জন্য নয়' । পড়তে গেলে মনে হয়, বুঝি গল্প পড়ছি, এমন গল্প যেটা লাইন বাই লাইন পড়া কোন সুরুচিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে অসম্ভবের মতো।
তবু আমার পক্ষে যদি সম্ভব হতো, প্রতিটি লাইন প্রতিটি মুসলমানকে পড়াতাম। হয়তো তুমি হার্টের রোগী, হয়তো রাতে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে যাবে, হয়তো খাবারের রুচি চলে যাবে, হয়তো বমি আসবে - তাতে কী?
আমাদেরই কেউ কেউ এক অজানা গোপন এক দুনিয়ায় বসে প্রাণপণে হয়তো চাইছে, আমি প্রায় নিশ্চিত তারা চাইছে, পুরোটা দুঃস্বপ্ন হোক। রুচির কথা বাদ দাও, এসব সস্তা রুচিবোধের গল্প করে কী হবে? তারা তো খাবারই পায় না; দিনে একবারের বেশি হাত ধোয়ার তাদের অধিকার নেই, কারাগারের কক্ষের এক কোনায় রাখা একটা বালতি ছাড়া আলাদা একটা বাথরুমের অধিকার নেই; সেই বালতিতেও দিনে দুমিনিটের বেশি অধিকার নেই...
একটু হলেও সচেতন হবে কি? আমরা মুসলমানরা তো এমনই, চোখে ঠুলি পরে আছি। আতঙ্ক, ঘৃণা দিয়ে যদি সচেতনতা আসে, তাহলে খারাপ কি?
......
আমরা ভুলে যাই, আমরা মুসলিম। ওরা ভোলেনা।
আমরা জানি না, আর আমাদের জানবার আগ্রহও নেই, আমাদের কাছে কী সম্পদ আছে; তবে ওরা জানে, খুব ভালোভাবে জানে।
Wednesday, September 23, 2020
হঠাৎ দিনলিপি ১
Sunday, August 02, 2020
এ অশ্রু কিসের?
Tuesday, April 21, 2020
ফিরে আসা প্রশান্তিতে
কিন্তু কাজ হচ্ছে না কেন যেন। ঈমানী কথাগুলো মাথায় ঠিক ক্রিয়া করছে না। অস্থির অস্থির লাগছে, শরীরে-মনে। শেষমেষ একটা ধমকই লাগালো নিজেকে , কি হলো তোমার! এভাবে অস্থির অস্থির করে কী লাভ হচ্ছে! এভাবে কি মৃত্যু ঠেকাতে পারবে? প্রস্তুতিটাও তো নিতে পারবে না..
নাহ..মৃত্যুভয় নয়, নিজেকে বলে নিশি। মৃত্যু, কবর, হাশর - কোনকিছুই তার মাথায় খেলা করছে না। তাছাড়া স্ট্যাটিসটিক্সও দেখেছে। তুলনামূলকভাবে মৃত্যুহার তো কমই..কিন্তু কেমন অদ্ভুত আতঙ্কগ্রস্ত লাগছে। যেন বাড়ির বাইরে মিলিটারি এসে দাঁড়িয়ে আছে, যে কোন মুহূর্তে ঢুকে সব তছনছ করে দেবে।
ভাগ্যিস OCD(১) নেই নিশির , থাকলেও কেবল অর্ধেকটা আছে। পুরোটা থাকলে আর দেখতে হতো না..তার মনে হচ্ছে, সবকিছুর মধ্যে করোনা কিলবিল করছে, জামা-কাপড়, বিছানা, ল্যাপটপ থেকে বইপত্র সবকিছুতে। কোনমতে ঠেকিয়ে রেখেছে নিজেকে..আর কীই বা করবে! এখন বুঝি রুম শাওয়ার করা শুরু করবে? কভি নেহি ম্যান..
*
হইচই শুনে বই থেকে মুখ তুলে তাকালো নিশি। একটা ছেলে পড়ে গেছে বোধহয় কাদায় পিচ্ছিল খেয়ে। তাই এতো আনন্দ । একটু অন্য ভাবনায় ডুবে গেল । এই তো ছেলেগুলো কী সুন্দর হাসছে, খেলছে! কে বলবে ওদের মধ্যে কারো করোনা নেই ? শুধু ছেলেরা? ঐ তো একপাশে খেলছে মেয়েরাও। এতক্ষণ কানামাছি খেলছিল, এখন অন্য খেলার প্ল্যান চলছে বোধহয়। ঐ যে ফ্রক করা মেয়েটা , এক ফাঁকে জামায় নাক মুছে নিলো। আর ছেলেগুলোও..ঘামছে দরদর করে , কেউ শার্টের হাতায় , কেউ বা রুমালে-গামছায় মুখ মুছছে।
একটা শ্বাস ফেলে আবার বইয়ে চোখ ফেরালো নিশি। আতঙ্ক কাটাতে শেষমেষ বইয়েরই আশ্রয় নিয়েছিলো সে। তারপর আছর হতেই উঠে এসেছে ছাদে। ইদানিং বই কেনাই হচ্ছিল না..মামীমার কাছে টাকাটা হাদিয়া পেয়ে ভাবলো , আচ্ছা এবার কিছু বইই কিনি! কী ভাগ্য ! হাতে এসে মাত্র পৌঁছল প্যাকেটটা , তার দুদিন পরেই কার্ফু শুরু! কী যে সৌভাগ্য - বইগুলোর দিকে চোখ পড়লেই মনে মনে শুকরিয়া করে নিশি।
কিন্তু বইয়ে মন টিকছে না এখন, চোখ উঠিয়ে আবার রাস্তার দিকে তাকাল। সব স্বাভাবিক, কোন আতঙ্ক নেই কোথাও; নেই শংকা , ভয় , সচেতনতা তো বহুদূর!
মনে মনে হাসলো নিশি। এখনই যদি কেউ মাঠটা এক চক্কর ঘুরে গলির এমাথা-ওমাথা একবার টহল দিয়ে কাশতে কাশতে ঘোষণা দেয় যে , আমি করোনা। ব্যস , পুরো এলাকা নিশ্চিত ফাঁকা হয়ে যাবে। আসলে কিছু কিছু মানুষের সচেতনতা মনে হয় সম্ভাবনার আপেক্ষিকতার ভিত্তিতে কাজ করে । আর সম্ভাবনা নির্ধারিত হয় কী দিয়ে? হয়তো প্রত্যক্ষ জ্ঞান দিয়ে । হয়তোবা এ কারণেই করোনার বিস্তার সূত্রের জ্ঞান তাদের ক্ষেত্রে কাজ করে না । তবে একজন কাশির রোগীকে নির্দ্বিধায় একঘরে করে দেয়। আবার সন্দেহযুক্ত কেউ মারা গেলে তাকে এলাকায় দাফন করতেই ভয়! আচ্ছা, করোনায় মারা গেলে কি লাশ থেকে ভুরভুর করে করোনা বের হয়?
এক স্তরের মানুষকে লজিক বুঝানো যায় না; কেউ বুঝেও বুঝতে চায় না, কারো তাওয়াক্কুল আ’লাল্লহ এখন লজিকের আওতায় নেই। শত বুঝালেও তাঁদের মস্তিষ্ক করোনা ট্রান্সমিশনের মতো ব্যাপার উপলব্ধি করতে পারে না । আচ্ছা, আল্লাহ তাদের সাথে কীভাবে মুআমালা করবেন? তাদের তাওয়াক্কুলকে গ্রহণ করে তাঁর প্রতি তাদের ধারণা অনুযায়ী ব্যবহার করবেন , নাকি তাদেরকে করোনা ছড়াবার উসিলা হিসেবে নির্ধারণ করবেন?
বই বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকালো নিশি। মনটা আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে আসছে। পরীক্ষার আগের রাতে যদি কেউ আবিষ্কার করে তেমন কিছুই পড়া হয়নি অথবা মৃত্যুর সময় নির্দিষ্ট করে দিলে , যেমনটা কেউ কেউ শান্ত হয়ে প্রস্তুতি নেয়..মনে মনে বললো - 'আল্লাহ! তুমি কতো পবিত্র! আমরা তো তোমাকে ছেড়ে আসবাব নিয়ে থাকতে ভালোবাসি, আসবাব নির্ভর হতে চাই! তুমি দেখিয়ে দিচ্ছো , আমরা আসবাব গ্রহণেও কতোটা অপারগ! ' - চোখ ভিজে গেলো নিশির - 'আল্লাহ, যেভাবে ভালোবেসে আমাদের তুমিমুখী করে নিচ্ছো, তৌফিক দাও সেভাবেই ভালোবেসে যাতে তোমাকে অন্তরে অনুভব করে নিই..আজীবন..'
*
মুগ্ধ হয়ে সাবান মাখা হাত দুটোর দিকে তাকিয়ে আছে নিশি। নাহ , মুগ্ধতা হাতের সৌন্দর্যের কারণে না; তার মাথায় একটু আগে শিখা যে দুআটা ঘুরছে তার কারণে । ভাবছে , কে এতো সুন্দর এতো উপযুক্ত দুআটা চালু করেছেন! কী করে তিনি জানতেন যে, হাত ধোয়ার সাথে এ ধরনের একটা দুআর প্রয়োজন হবে!(২)..
ট্যাপ ছেড়ে দিলো নিশি-
নিশির মন অনুসন্ধিৎসু হয়ে উঠছিল। ইশ! কতোদিন ধরে মন দিয়ে উযূটাও করা হয় না। এতক্ষণে মনে পড়লো , উযুর সাথে তো সমস্ত গুনাহও ধুয়ে চলে যায়। যত্ন করে বাকি উযু শেষ করলো নিশি। পা ধোয়ার সাথে সাথে খেয়াল হলো - আরে! উযুর পানি না শেফা! ধ্যাত ! বিরক্ত হলো নিশি নিজের উপরই, মগে উযু করার অভ্যাসটা এখনই করে ফেলতে হবে। আর 'পরে কখনো'র জন্য ফেলে রাখা যাবে না ।
মাগরিবের নামাযের পর সন্ধ্যার দুআগুলো নিয়ে বসলো নিশি । একইসাথে মুগ্ধতা, তৃপ্তি আর প্রশান্তি খেলা করছিল তার মনে। ধীরে ধীরে অর্থ মিলিয়ে মিলিয়ে উচ্চারণ করছিল সে -
মন ভরে যাচ্ছিলো নিশির..
*
রাতে শুতে যাবার আগে ভালোবাসা নিয়ে একবার বইয়ের স্তুপের একেবারে উপরে তাকায় সে। নাহ! ধূলিমলিন নয় কিতাবটা, দুদিনে একবার হলেও তো হাতে নেয় সে তাকে..
শুয়ে পড়লো নিশি। সকালের আগেই উঠে পড়তে হবে , তার সাথে গল্প করবে না?
হুম, মৃত্যুকে সে ভয় পায় না। কেউ যদি তাকে হাতে ধরে, পদে পদে তাঁর ভালোবাসাকে স্মরণ করিয়ে দেয় , তারঁ ডাকে সাড়া দিতে ভয় কি তার? কিন্তু, তাঁর চিঠিটা বুকে নিয়ে যেতে না পারলে বড় আফসোস থাকবে..
……..তথ্যসূত্রঃ…...
১.Obsessive-Compulsive Disorder (OCD)। শুচিবায়ু।
২.উযূর অঙ্গগুলো ধোয়া/মাসেহ করার দুআগুলো হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তবে বুযুর্গানে দ্বীন এগুলো পাঠ করেছেন বা করেন।(আহকামে যিন্দেগী)
৩.অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট মঙ্গল ও বরকত কামনা করি এবং অমঙ্গল ও ধ্বংস থেকে পানাহ চাই।(আহকামে যিন্দেগী)
৪.অর্থঃ আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি তারই উপর নির্ভর করি। তিনি মহা আরশের অধিপতি। (সুরা তওবা: আয়াত-১২৯)
৫.অর্থঃ আল্লাহর নামে, যার নাম (স্মরণের) সাথে আসমান ও যমীনে কোন কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।(আবু দাউদঃ ৫০৮৮)
৬.অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের উসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই। (মুসলিমঃ ২৭০৯)
৭অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি আমার দ্বীনদারি ও দুনিয়ার, আমার পরিবার ও সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে নিরাপত্তায় পরিণত করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হিফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের উসীলায় আশ্রয় চাই আমি নিচ থেকে হঠাৎ ধ্বংস হওয়া থেকে।(আবু দাউদঃ ৫০৭৪)
৮সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার। (বুখারী ৬৩০৬)